হাজী ফাজেল মোহাম্মদ তালুকদার

প্রত্যেকটি মানুষেরই জীবন কাহিনী থাকে, সে কেবল তার পরিবারের জন্যই এ গতানুগতিক আমজনের জীবন। কিছু কিছু মানুষের আবার গতানুগতিকতার উর্ধ্বে তিয়াত জীবন তাহিনী থাকে, সে কাহিনী তার পরিবারকে ছাড়িয়ে সমাজের, দেশের জন্য হয়ে প্রয়োজনীয়। সে মানুষ তাঁর কতি নিয়ে কীর্তিমান হয়ে ওঠেন তখন তিনি দেশবর সমাজের জন্য অগ্রণী ব্যক্তিতে পরিণিত হন। মেধা, শ্রম আর মানব কল্যাণে অধ্যাতায় নিয়ে এলাকা আতিক্রম করে বহুদূর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়া একজন সমৃদ্ধ মানুষের নামহী ফাজেল মাহমুদ তালুকদার। তিনি এই গ্রামীণ শিক্ষার এক আলোক বর্তিকা হয়ে যুগে যুদে দেশ কাল সামাজে বেঁচে আছেন।

এই সমৃদ্ধ ও অগ্রণী মানুষটি এক নিভত মাদারগঞ্জ এর চাঁদপুর গ্রামে জন্ম নেন বঙ্গার ১২৪২ আর ইংরেজী ১৮৩৫ সালে। তাঁর পিতা মোহাম্মম্মদ বাজিত উল্লাহ মন্ডল এই মাসের স্থানীয় বাসিন্দা। যুগে যুগে তাদের পৈতিক ভিটায় কষি কাজ কাজ করে জীবন চালাতো যমুনা নদীর ভাঙ্গনে বার বার বাড়িঘর হুমকির সম্মুখিন হলেও এই আদি বাড়ি ছেড়ে কখনো চলে যাননি। ব্যজিত মন্ডলের ঘরে ৫ পুত্র আর ৪ কন্যা ছিল। ফাজেল মাহমুদ তাঁর সন্তান। বাবার সাংসারিক কাজে ছোটকাল থেকে যোগ দেন। তারপর পড়া লেখার প্রতি তাঁর আগ্রহ বাড়ে। তাই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অভাবে বাড়ির অদূরে গাবেরগ্রামের এই আকন্দের কাছে কোরআন শিক্ষাসহ বাংলা বর্নমালা আর শুভকংরী অংক শিখেন। প্রবল স্মৃতিশক্তি সম্পূর্ণ এবং অত্যন্ত মেধাবী ছিলেন তিনি। ছোটকালে গ্রামে বাবার গোচরণ মায়ে বসে বসে তিনি পড়া লেখা করতেন। তিনি অল্প বয়সে নিজেই ছড়া ও শ্লোক রচনা করে সমাজে নাম করেছিলেন। তাই বাবার ইচ্ছেই। তিনি কৃষিকাজ ছেড়ে ব্যবসায় মনোনিবেন করেন। এবং পিতা মাতার প্রবল চাপে বাল্য বয়সে তিনি বঙ্গায় ১২৫৮ সালে প্রথম বিয়ে করেন। পরে তাঁর ঘরে একে একে ৪ পুত্র এক কণ্যা জন্য নেন। তাঁরা হলেন এনাতুল্লাহ তালুকদার দারাজ উল্লাহ তালুকদার মোজ্জাফর তাঁরা পিতার আগেই মৃত্য বরণ করেন। প্রথম পক্ষের পুত্রদের মধ্যে একমাত্র জীবিত ফারান উল্লাহ তালুকদার পরবর্তীতে পিতার। তালুকদারী পরিচালনা করতেন।

তিনি ব্যবসায় সফল করার পর ১২৭৬ সালে পায়ে হেঁটে প্রথমবার পবিত্র হজ্ববত্র পালন করেন। পবিত্র হজ শেষে বাড়ি ফিরলে তাঁকেদেখতে দূরদূরান্তের লোক বাড়তে সমগম হয়। তিনি ১৩০২ সালে চৈত্রমাসে দ্বিতীয়বার হজ্ব পালন করার জন্য মক্কা নগরীতে গমণ করেন সে সময় মাদারগঞ্জ থেকে ষ্টিমার চলাচল করতো। তিনি ইস্ট বেঙ্গল নেভিগেশন কোম্পানীর একটি স্টিম ইঞ্জিন চালিত জাহাজে কোলকাতা গমণ করেন। পরে রেল যোগে। বোম্বে এবং সেখান জাহাজ যোগে আরব সাগর পাড়ি দিয়ে মক্কায় গমণ করেন। থেকে তখন থেকে তাঁর নাম ও যশ এলাকায় বাড়তে থাকে।

১২৯৮ বঙ্গায়ে এক পর্যায়ে ফাজেল মাহমুদ দ্বিতীয়বার দার পরিগ্রহ করেন বাড়ির পাশে প্রভাবশালী এবং সমৃদ্ধ খান পরিবারের সুশিক্ষিত মেয়ে সন্ধ্যাজান বিবি কে। তাকে বিয়ে করার পর ফাজেল মাহমুদের সংসার ও ব্যবসায় ব্যাপক প্রসার ঘটে। ফাজেল মাহমুদের প্রসারিত চিন্তা আর জ্ঞানবতী স্ত্রী সন্ধ্যাজানের পরমর্শে শৈনেঃ শৈনেঃ তার আয় বৃদ্ধি হয় এবং ব্যবসায়, সংসার, সম্পত্তি এমনকি সমাজে তাঁর মর্যদা বৃদ্ধি পায়। ব্যবসায় ফলতাম পর তিনি জমিদারী ক্রয় করার জন্য সে সময় ইংরেজ শাসকদের সাথে কোলাকয়া যোগাযোগ করেন। কিন্তু সে সময়কার ময়মনসিংহের প্রভাবশালী রাজপরিবার ও জমিদার রা একজন মুসলামান কে জমিদারী প্রদান না করার জন্য জোটবদ্ধ হয়। কিন্তু সে কারনে চিরস্থায়ী হিন্দু জমিদার ও রাজাদের উপক্ষো করে ইংরেজ শাসকদের কাছ থেকে তালকদরী ১৮৫৭ সালের চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের আইনেও তিনি জমিদারী ক্রয় করতে পারেনি। কিন্তু ক্রয় করেন। এ সময় তিনি মেলান্দহের শি-হাটা হাজরাবাড়ি, সহ কয়েকটি মৌজা প্রদান

করার পর তাঁর নামের পরে তালুকদার পদবী যোগ হয়। হাজী ফাজেল মাহমুদ তালকদার এর দ্বিতীয় স্ত্রীর গর্ভে ৪ ছেলে ১ মেয়ে জন্ম নেন। তাঁরা হলেন শফাত উদ্দিন তালুকদার, শহিদ উল্লাহ তালুকদার, রফাত উদ্দিন তালুকদার, বফাত উদ্দিন তালুকদার। ২য় স্ত্রীর ছোট ছেলে। এ.কে. এম বফাত উদ্দিন তালুকদার দুই বারএম,এল ৩, (এম.পি) ছিলেন, মুসলিমলীগের একজন প্রভাবশালী এম, এল, এ হিসাবে সারা ভারতবর্ষে খুব নামডাক ছিল। তাঁর বড়ভাই রফাত উদ্দিন তালুকদার বালিজুড়ি জোনাইল ইউনিয়ন বোর্ডের প্রথম প্রেসিন্ডেন্ট। চেয়ারম্যান) নির্বাচিত হন। তিনি একাধারে ৪ বার চেয়ারম্যান ছিলেন। সে সময়কার ইংরেজ সরকার তার কর্ম পরিচালনা দেখে ময়মনসিংহের মেই চেয়ারম্যান নির্বাচিত করেন

হাজী ফাজেলা মাহমুদ সংসার জীবনের পাশাপাশী তিনি সমাজ উন্ননের বিভিন্ন ধরনের কাজ করতে থাকেন। তাঁর অর্থায়নে নিজবাড়িতে তিন গম্বুজ বিশিষ্ট একটি সুদৃশ্য মজিদ নির্মান করেন। সে সময় টাইলস এর প্রচলন ছিলনা সুদূর চীন দেশ থেকে সিরামিক পাথর এনে মসজিদের গম্বুজ এর কারুকাজ করা হয়। সে সময়কার জামালপুর জেলার পশিচম এলাকায় এ রকম মসজিদ ও দ্বিতীয়টা ছিলনা। তিনি জামলপুর দেওয়ানী আদালতের নিকটে একটি মসজিদ, চর পাকেরদহ গ্রামের মোহাম্মদী মসজিদ এর জন্য অর্থ প্রদান, মাদারগঞ্জ থানা ভবনের জন্য ১৯০৫ গাবেরগ্রাম মৌজায় জমিসহ ১৫শ রৌপ্য মুদ্রা প্রদান করেন। তিনি দাতাব্য চিকিৎসালয় স্থাপন কারার জন্য ময়মনসিংহ ডিয়িক বোর্ডে ১শত মুদ্রা দান করেন। তিনি সারা দেশের মুসলমান সমাজের জন্য তাঁর হাত ছিল প্রসন্তছিল তিনি সে সময়কার স্বদেশী আন্দোলনের সময় উত্তর বঙ্গের ‘ডালা হাটের’ লুটপাটের মামলায় বিপন্ন মুসলামানদরে পাশে দাড়ান। এবং সোলতান পত্রের ম্যানেজার মৌলভী মোহাম্মদ ইব্রহিম হোসেনর কাছে অর্থ প্রেরন করেন। তিনি মুসলামান সমাজের পাশাপাশী বলকান যুদ্ধে তুর্কীর মুসলমানদের সাহায্যার্থে অর্থ প্রদানসহ বই প্রকাশ করার জন্য জামাপুরের সৈয়দ আঃ রহমান কে অর্থ সাহায্য করেন। তিনি চট্টগ্রামের শাহ বদিউজ্জামান সাহবের মাজার পাকা করার জন্য অর্থ প্রেরণ করেন। তখন তিনি এই এলাকার একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার প্রতি আগ্রহী হয়। ১৯০০ সালে মাদারগঞ্জ এ একটি মাদ্রসা প্রতিষ্ঠিত হয়। মাদ্রাসার উদ্যোক্তা বালিজুড়ি মিয়াসাব পাড়া গ্রামের মুন্সি আঃ আলী সাহেব। তিনি মাদ্রসা পরিচালনা করতে গিয়ে মাদারগঞ্জ এর ধান্যচ্য ব্যাক্তি হাজী ফাজেল মাহমুদ তালুকদারের কাছে স্বরনাপূর্ণ হন। তিনি মাদ্রসা পরিচালনা করার জন্য ১৯শ সালে এককালীন ৭হাজার মুদ্রা দান করেন। তারপর থেকে ঐ মাদ্রাসার নামকরন হয় বালিজুড়ি ফাজেলিয়া জুনিয়র মাদ্রাসা। তার পর মুসলমান ছাত্রদের ইংরেজী শিক্ষার জন্য মুন্সি মহিউদ্দন এর উদ্দোগে বালিজুড়িতে মধ্য ইংরেজী স্কুল প্রতিষ্টা হয়। পরে ভবানীপুরের জমিদার রায় সতীষ চন্দ্র চৌধুরীর পুত্র রায় ক্ষিতীষ চন্দ্রের নামে রায় ক্ষিতীষ চন্দ্র মধ্য ইংরেজী স্কুল নাম করণ করা হয়। স্কুলটি শুরু হলে মুসলমান ছাত্রের সংখ্যা বৃদ্ধি পেলে জমিদার পরিবার স্কুলটি চালাতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। কিন্তু স্কুলের শিক্ষকরা এবং এলাকার বিশিষ্ট ব্যাক্তি বর্গ স্কুলের দায়ীত্ব ভার নেয়ার জন্য অত্র এলাকার তালুকদার হাজী ফাজেল মাহমুদ তালুকদার এর দারস্ত হন। তিনি আলহাজ আঃ আলী, পন্ডিত রেয়াজ উদ্দিন আহমদ, জাবেদ আলী ফকির প্রমুখ ব্যাক্তিদের অনুরোধে অবশেষে তিনি ঐ স্কুলের দায়িত্ব নিতে বাজি হন। এবং তৎকালীন জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মিঃস্প্রাই এর নিকট এক কালীন ৩০ হাজার রৌপ্যমুদ্রা দান করেন। এবং স্কুল টির নাম করণ করা হয় বালিজুড়ি ফাজেল মাহমুদ হাইস্কুল। তার পর হাজী ফাজে মাহমুদ তালুকদারের কাছে নানান প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার জন্য চিঠি আসতে থাকে। সেসময় তৎকালীন ময়মনসিংহ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জে, আর, ব্লাকউড ৩০ জুলাই ১৯১১ সালে এক পত্রের মাধ্যমে ময়মনসিংহে একটি বালিকা বিদ্যালয়র প্রতিষ্ঠার জন্য ১৫ হাজার মুদ্রা প্রদান করার জন্য অনুরোধ করার জন্য বলেন। এর জন্য তাঁর নামে বিদ্যালটি নাম করণ করা হবে হলে জানান। কিন্তু হাজী ফাজেল মাহমুদ ম্যাজিষ্ট্রেট সাহেবকে পরের পত্রে জানান যে, আমার এই অবহেলিত অঞ্চলে কোন বিদ্যালয় নেই কেবল একটি স্কুল প্রতিষ্ঠা হয়েছে। আপাততঃ চাদা দেয়া যাচ্ছেনা। তারপরও ১৯১৩ সালের ৮ জুন আনন্দমোহন কলেজ চাঁদা কমিটির সভাপতি মিঃ সি সেলস হাজী ফাজেল মাহমুদ তালুকদারকে চাদা প্রেরণের অনুরোধ করা হয়। বালিজুড়ি এফ এম উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর সে সময়কার মোহাম্মদী পত্রিকায় ‘বঙ্গের হাতেম’ উপাধী দিয়ে একটি নিবন্ধ প্রকাশ পায়। তা নিয়ে সারা বাংলায় হৈচে পড়ে যায়। ১৯১১ সালে অক্টোবরে ময়মনসিংহ জেলা মুসলামান শিক্ষা সমিতির করটিয়া অধিবেশনে নওয়াব খাজা সলিম উল্লাহ কেসি এস আই, জি সি, এস আই এর সভাপতিত্বে হাজী ফাজেল মাহমুদ তালুকদার কে কে ধন্যবাদ জ্ঞাপণ করে একটি প্রস্তাব পাশ করা হয়। সে প্রস্তাব ময়মনসিংহ জেলা মুসলামান শিক্ষা সমিতির সাধারন সম্পাদক নওয়াব সৈয়দ নওয়াব আলী চৌধুরী সি, আ, ই সাহেব পত্র লিখে হাজী ফাজেল মাহমুদ তালুকদার কে প্রেরণ করেন।

হাজী ফাজেল মাহমুদ তালুকদার শুধু শিক্ষাক্ষেত্রে নয় সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রেও ছিল অগ্রগণ্য। তিনি সব সময় করি সাহিত্যিক, বুদ্ধিজীবিদের সাথে মেলামেশা করতো। পন্ডিত মৌলভী রেওয়াজ উদ্দিন আহমদ এর সাথে ছিল তার খুব ভালো সম্পর্ক, তিনি একবার পন্ডিত সাহেবের বাড়িতে আমন্ত্রিত হয়ে আসা ইসমাইল হোসেন সিরাজী সাবেব কে তার বাড়িতে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। তাঁর আমন্ত্রণ পেয়ে সিরাজী সাহেব সারা দিন চাঁদপুরস্থ হাজী সাহেবের বাড়িতে ছিলেন। এবং সারা দিন গল্প করে কাটাতেন। সাহিত্য, সাংস্কৃতিক, দেশচার, সমাজ সংসার সম্পর্কে তিনি অনেক জ্ঞানগর্ভ আলোচনা করেন। তিনি তার কাছে দেশ ভ্রমণের নানান কাহীনি শুনে দেশ ভ্রমণে বের হওয়ার ইচ্ছে প্রকাশ করেন। তিনি মাতৃভাষা বা নিজস্ব সাহিত্যের প্রতি অনুগ্রাহী ছিলেন। মাতৃভাষা নিয়ে কোন পুস্তক রচনায় তিনি কোন না কোন ভাবে সাহায্য করতেন। তাই সে সময়কার পন্ডিত রেওয়াজ উদ্দিন আহম্মেদ এর উপদেশে পল্লী এলাকার কবি, সাহিত্যিকদের কে অনেক সহয়তা প্রদান করেন। ময়মনসিংহের মৌলভী মোফাখারুল ইসলাম, সে সময়কার ময়মনসিংহ থেকে প্রকাশিত ‘শিক্ষা প্রচার’ পত্রের সম্পাদক মৌলভী মোসলেম উদ্দিন খান তাঁর সাথে সাক্ষাত করেন। এবং তাঁকে নিয়ে পত্রিকায় প্রবন্ধ ও কবিতা প্রকাশ করেন। এইসব পত্রিকায় হাজী ফাজেল মাহমুদের রচিত ছড়া প্রকাশ করা হতো। তিনি বহু শ্লোক ও ছড়া রচনা করে গেছেন। সেগুলি থেকে সামান্য কিছু মৌলভী বেয়াড উদ্দিন আহমদ এর রচিত ‘হাজী ফাজেল মোহাম্মদ’ গ্রন্থ তে উল্লেখ রয়েছে।

তাঁর সাথে পত্র মারফত আলাপ হতো সে কালের ঢাকার নওয়াব খাজা সলিমউল্লাহ কে.সি এস, আই, ডিসি, এস আই এব। তিনি ১৯১১ সালের ২৪ মে একটি পত্রে হাজী ফাজেল মাহমুদ তালুকদার কে তাঁর দাম সম্পর্কে ধন্যবাদ জ্ঞাপণ করেন। এবং তাঁকে আহসান মঞ্জিলে আমন্ত্রণ জানান। এ ছাড়া বঙ্গীয় সরকারের মন্ত্রী বাহাদুর ধনবাড়ির প্রখ্যাত নওয়াব সৈয়দ নওয়াব আলী চৌধুরী সি, আ, ই এর সাথে প্রায় পত্র বিনিময় হতো। তিনি কয়েকবার হাজী সাহেবকে ধনবাড়িতে নিমন্ত্রণ করেন। কিন্তু অসুস্থতার কারনে তিনি ঢাকায় আহসান মঞ্জিলে ও ধনবাড়িতে যেতে পারেননি। তিনি মৃত্যুর কয়েক বছর আগে থেকেই শ্বাসরোগে আক্রান্ত হোন এবং সর্ব প্রকার চিকিৎসার পরেও তিনি সুস্থ হননি। এই অবস্থায় তিনি তিনি বারী কাজগুলি সমাপ্ত করেন। এবং সন্তান এবং স্ত্রীর মধ্যে সম্পদ বণ্টন করে দেন। এয়াড়া তার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ উন্নায়ন কাজ গুলি সমাপ্ত করে ফেলেন। তার পর ১৯১৯ সালের ৫ ডিসেম্বর বেলা একটার দিকে যখন তার প্রতিষ্ঠিত সুউচ্চ মসজিদের মিনার থেকে জুম্মার নামাজের আজাস ভেসে আসছিল তখনি এই পৃথিবি থেকে চলে গেলেন হাজী ফাজেল মাহমুদ তালুকদার।